রাত্রির একান্ত ছায়ায় জন্মেছি আমি —
ভাঙা শহরের ধুলোর মতন নিঃশব্দ।
আমার হাত ভরে আছে পোড়া পাতার গন্ধে,
আমার চোখে বিষণ্ন আগুনের রেখা।
জন্মভূমি — পুড়ে যাক স্তব্ধতার ধোঁয়ায়,
মাতৃভূমি — মিলিয়ে যাক কোনো বিস্মৃত বিষাদে।
আমি ফিরবো না — আমি নই আর জন্মভূমির সন্তান।
শূন্য গলির শেষে আমি শুনি—
ভেঙে পড়া সিংহাসনের থেমে আসা শব্দ।
একদিন সূর্য উঠেছিল,
আজ তার রক্তবর্ণ ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
আমি হেঁটে যাই —
পায়ের তলায় জ্বলে ওঠে
ভঙ্গুর প্রাচীন পাথরের গন্ধ।
হে শাসক, হে বিষের কারিগর,
তোমার শান্তির মুখোশ মাটির সাথে মিশে যাবে —
আমি শুধু দেখবো নীরবে,
ঘাসের ডগায় রক্তের শিশির ফুটবে।
আমি দাবানল নই —
আমি সেই ধীর বিষণ্ন আগুন,
যে নিঃশব্দে গ্রাস করে নগরীর সীমানা।
আমার জন্ম — ছিন্ন হাওয়ার বুকে,
আমার দেশ — এক বিষণ্ন কারাগার।
আমি আসবো না ফিরে —
আমি ঝরা পাতার মতো হারিয়ে যাবো,
কিন্তু আমার শূন্যতা —
তোমাদের বুকে পোড়ার চিহ্ন রেখে যাবে।